৩ দিনে শ্রীলঙ্কা: সমুদ্র, ইতিহাস ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য
- Sakif Ahsan
- Sep 29, 2025
- 2 min read

প্রথম দিন – কলম্বো শহরে আগমন - ঢাকা থেকে সরাসরি শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোতে পৌঁছলাম। প্রথম অনুভূতি—শহরের বাতাসে মিশে থাকা সমুদ্রের নরম সুবাস। কলম্বো শহর ছোট কিন্তু প্রাণবন্ত। রাস্তায় মানুষজনের হাসি, রঙিন বাজার আর ছোট ছোট ক্যাফের সৌন্দর্য—সবকিছু যেন ভ্রমণের মেজাজ তৈরি করল।
সন্ধ্যার দিকে গেলাম গালে ফোর্ট—পুরোনো ডাচ কেল্লা। পাথরের রাস্তা, প্রাচীন ইটের দেয়াল আর সাগরের ঢেউয়ের শব্দ যেন এক ইতিহাসের গল্প বলছিল। রাতের আলোয় শহরটা যেন জীবন্ত হয়ে উঠল।
দ্বিতীয় দিন – ক্যান্ডি এবং সাংস্কৃতিক আবেশ - সকালে রওনা দিলাম ক্যান্ডি শহরের পথে। পথে চোখে পড়ল লুশ সবুজ চা বাগান—পর্বতের কোলে সাজানো এক অসাধারণ দৃশ্য। ক্যান্ডিতে পৌঁছে প্রথম গন্তব্য দ্য টেম্পল অফ টুথ রিলিক। মন্দিরের প্রার্থনা, ঘণ্টার শব্দ আর ধূপের ঘ্রাণে মনে হলো—শুধু চোখ নয়, হৃদয়ও শান্ত হয়ে উঠল।
দুপুরে হাঁটাহাঁটি করতে গিয়ে শহরের ছোট বাজার দেখলাম, স্থানীয় হস্তশিল্প ও চায়ের দোকান। প্রতিটি দোকান যেন শ্রীলঙ্কার সংস্কৃতির এক অংশ। বিকেলের দিকে শহরের প্রাচীন রাজপ্রাসাদগুলো ঘুরে মনে হলো—শ্রীলঙ্কার ইতিহাসের প্রতিটি কোণে লুকানো আছে গল্প।
তৃতীয় দিন – সিগিরিয়া এবং নীলসাগর - শেষ দিনে ভ্রমণ করলাম সিগিরিয়া রক ফোর্ট-এ। পাহাড়ের ওপর ওঠার সময় হাঁটতে হাঁটতে মনে হলো—এই পথটা শুধু শারীরিক নয়, মানসিক ও আত্মারও এক যাত্রা। উপরের চূড়ায় পৌঁছে চোখের সামনে দেখা মিলল পুরো বনভূমি, লেক আর প্রাচীন দুর্গ—মনকে শান্তি আর চোখকে আনন্দ।
দুপুরের পরে গেলাম নীলসাগর সৈকত। সাদা বালুকার ধারে বসে সূর্যাস্তের আলো দেখলে মনে হলো—পৃথিবীর সৌন্দর্য আর প্রশান্তি একসাথে এখানে মিলেছে। ঢেউয়ের শব্দ, হালকা বাতাস আর নরম সূর্যের আলো—সব মিলিয়ে এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা।
ফেরার পথে- তিন দিনের এই যাত্রা শেষে মনে হলো—শ্রীলঙ্কা শুধু একটি দেশ নয়, বরং প্রকৃতি, ইতিহাস এবং মানুষের হাসির এক মিলনক্ষেত্র। এখানে প্রতিটি মুহূর্ত আপনাকে শেখায়—ভ্রমণ মানে শুধু ঘোরা নয়, ভেতরের শান্তি খোঁজা।
সারাংশ..
কলম্বুর শহর, ক্যান্ডির সাংস্কৃতিক রঙ, সিগিরিয়ার দুর্গ আর নীলসাগরের প্রশান্তি—সব মিলিয়ে শ্রীলঙ্কা হলো এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা। তিন দিনের এই ভ্রমণ মনে করিয়ে দেয়, প্রকৃতি ও ইতিহাসের মিলনই আসল আনন্দ।



Comments